গৌতম সাহার প্রতি খোলা চিঠি



 স্নেহের গৌতম
তোমার আমার শেয়ার করা Faceebook  পোস্ট  এ তোমার মন্তব্য আমাকে ৩৫ বছর আগেকার ঘটনা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে , কমিউনিস্ট পার্টির সর্বক্ষণের  কর্মী হবার স্বপ্ন নিয়ে আমি জাননগর ছাড়ি । রেখে এসেছিলাম আমার মাকে , রেখে এসেছিলাম আমার প্রিয় জন্ম ভুমি কে । আর ছিল ভালুয়ারা তে আম বাগান ।  সেদিন বিশ্বাস করে আমি জমি জমা দেখাশুনার দায়িত্ব দিয়েছিলাম ।
তার পর আমার জীবনে এক ভয়ঙ্কর বিপর্যয় নেমে আসে , আর এই বিপর্যয়ের দায়ী আমার মা । তার অজ্ঞতা ও সরলতা কে পুজি করে ঐ গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি যাদের আমি নাম করতে চাইনা । এদের চক্রান্তের শিকার হয়ে পড়ে আমার মা । তারা আমার মাকে কু পরামর্শে দিয়ে মা ও ছেলের সমন্ধে এক দেওয়াল তুলে দেবার চেষ্টা করতে থাকে । আমি যখন তাকে দুর্গাপুরে নিয়ে আসি । কিন্তু এখানে থাকবে না বলে জাননগরে চলে যায় , এই ফাঁকে অনিল ঘোষ আমাদের মাটির বাড়ি ভেঙ্গে দেয় । আমার মা দুর্গাপুর থেকে ফিরে গিয়ে কতবেল তলায় বসবাস শুরু করে । আমি যখন আমার ৫ বছরের সন্তান নিয়ে তাকে আনার জন্য গেলাম । সেদিন মায়ের পরামর্শে অনিল ঘোষ দলবল নিয়ে ঘিরে ধরে আমাকে আক্রমণ করবে বলে । সেদিন অভিমান ও যন্ত্রণা নিয়ে গ্রাম ছেড়ে ছিলাম ।
সারা সন্তের মত জীবন যাপন করে আমার জীবনে এই  রকম ঘটনা কেন ঘটল তা নিয়ে আমার জীবনে আজও প্রশ্ন হিসাবে আছে । কু মাতা দেখার দুর্ভাগ্য আমার হয়েছে ।

আমি প্রারব্ধে বিশ্বাস করি , আমি কর্ম ফলে বিশ্বাস করি , আমার মা তার কর্মের ফল ভোগ করেছেন এটা বলা ছাড়া আমার কোন বিকল্প ণেই । তাকে সুখে শান্তি তে রাখতে চেয়েছিলাম কিন্তু তার কর্ম কর্ম ফল তাকে ভোগ করতে এটা ঈশ্বর নির্ধারিত ।
এই সাধু সন্তের মত জীবন , সেই সুরেন্দ্রনাথ ঝার জীবন কে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল , সন্তান হিসাবে এটাই বলতে পারি । ঈশ্বর নির্ধারিত ভোগ তাকে পেতে হয়েছে । আমি পারিনি আটকাতে । ঈশ্বরের শাস্তি বড় কঠোর নির্মম । এই  শাপিত আত্মা আমাদের পরিবারের ধ্বংসের জন্য এসেছিল ।
ভাই গৌতম , এই রকম এক সুখী জীবন আমি চেয়েছিলাম , কিন্তু অভিশপ্ত ভাগ্য আমাকে সেই সুখ দেয় নি , তাই তোমার মত এক জনের কাছে বেইমান শব্দ শুনতে হচ্ছে , এটা আমার কাছে পুরস্কার ,আমি যদি আমার মায়ের সাথে যদি কোন অন্যায় করে থাকি তাহলে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর তার বিচার করবেন ।

জাননগরের এই ভুমি তে আমার জন্ম । আমি কারো জমি চাই না । আমার পূর্ব পুরুষের  ভিটে কেউ জোর করে দখল করে রাখবে । এটা তো দেশে আইন  বিরুদ্ধ । আমার বিশ্বাস বিচার আমি পাব । তোমরা আমাকে চেন না , তোমাদের ্জন্মের অনেক আগে আমি জাননগর ছেড়েছি । তোমাদের কাছে আমার অনুরধ তোমরা সত্যের পক্ষে দাড়াও এটাই আমার অনুরধ ।

                                           চাণক্য আমার অনুপ্রেরণা
                                                  পথ প্রদর্শক  কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  
আছে ঈশ্বরে বিশ্বাস , তিনি বিচার করবেন 
চাণক্যের বানী দিয়ে আমার এই লেখা শেষ করতে চাই ।

অর্থনাশং মনস্তাপং গৃহে দুশ্চরিতানি চ
বঞ্ছনাং চাপমানঞ্চ মতিমান ন প্রকাশয়েত ।

একমাত্র ভগবান ছাড়া কেউই যথার্থ অর্থে আমাদের দুঃখ ঘোচাতে পারে না , শুধু তাই নয় আমাদের অসহায় পরার পর দুরাবস্থার কথা যদি অন্যকে বলে ফেলি তাহলে আত্মমর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হবে না । কারন পরে এসব কথা নিয়ে কেউ উপহাস করতে পারে । জীবনে সমস্যা ডেকে আনতে পারে ।
বিপদে ফেলতে ফেলতে পারে । তাই নিজের মান সন্মান বজায় রাখতে এসব গোপন রাখাই উচিত ।

ইনসান ইশারা কাফি । 
এরপর , গৌতম তোমার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমার সাথে যোগাযোগ কর , তোমার সাথে মন খুলে কথা বলব ।
jugaljha@gmail.com
M 9474546803 





আমিও প্রতিজ্ঞা আমি আমার জন্ম ভিটে জমি মাফিয়া অনিল ঘোষের হাত থেকে কাগজ পত্রে যা আছে তা যেন স্বেচ্ছায় ছেড়ে তার জন্য তুমি তো প্রচেষ্টা করতে পার । সামাজিক ভাবে তুমি আমার বক্তব্য শুনতে পার , একতরফা ভাবে কোন মন্তব্য সঠিক নয় । কি পরিস্থিতি তে আমি জাননগর ছেড়ে ছিলাম ? সেদিন এর কেন আমার অগাধ বাসন পত্র , সম্পত্তি , জমি নষ্ট হয়ে গেল , জোতদার পরিবারে জন্ম নিয়েও সব কেন হারিয়ে ফেললাম ? এই প্রশ্ন তীর্থে তীর্থে ঘুরেছি , তাদের কাছে কেঁদেছি
একটা ঝড় আমার কেড়ে নিয়েছে সব ।

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত        সুরেন্দ্রনাথ ঝা এর নামে একটি মন্দির   গড়ে তোলা এটা কোন লোভের বিষয় কে চাই না তার জন্ম ভিটে কে ভালবাসতে , যে মাটী আমার কাছে মায়ের সমান তা কিভাবে হস্তান্তরিত হল , এখানেও শঠতা , জালিয়াতি , বিশ্বাস ঘাতকতাঁর আশ্রয় নেয়া হয়েছে , শূন্যতা কাজে লাগিয়ে তার স্বার্থ সিদ্ধি করেছে অনিল ঘোষ । কিছু ঘটনা আমাকে আমার মা থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল এটা ঠিক । আমি পারিনি তাকে আমার কাছে রাখতে , আমার মামারা কটিহারে আমার মামার রাখতে পারেনি , আমার ভাগ্নেরা রাজমহলে রাখতে পারেনি । ভাই গৌতম তুমি চেষ্টা করে জানাও , সাথে সাথে তার শেষ জীবনের দিন গুলি নিয়ে মেইল কর । আমার খুব কাজে লাগবে । আমার এটা জানা খুব প্রয়োজন । এই বিষয়ে তোমার সহযোগিতা প্রয়োজন ।
আমার দুর্ভাগ্য কুমাতা দেখা সৌভাগ্য  আমার হয়েছে । এক বছরের শিশু কে মাসের পর মাস কটিহার চলে জেত , আজ গ্রামে পুরান মানুষেরা তার সাক্ষী । 
আমি দেখেছি  বাড়ির বাসন পত্র যার অধিকাংশ পেতল আর কাসার , আমি দেখেছি আম বাগান বিক্রি করে  ব্যবসা করার সমানে টাকা নিয়ে চলেছেন , বড় মার আশীর্বাদে । এটা একটা মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা হয়ত তোমার ঠাকুরদা ঠাকুর মা জানে । এই পরিবারের প্রভাব প্রতিপত্তি হয়ত তোমাদের জানা নেই । তোমার জানা নেই আমার ঠাকুর দা নুরপুরের জমিদার দের নায়েব ছিলেন , আমার বাবা পাঠান জমিদারদের গমাস্তা ছিলেন , আমার কাকা বিহার পুলিশে কাজ করতেন , তাদের চলার জন্য নিজস্ব ঘোড়া  ছিল । সুরেন্দ্রনাথ ঝা রতুয়া অঞ্চল পঞ্চায়েত নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রথম পঞ্চায়েতে
সুরেন্দ্রনাথ ঝা রতুয়া বাজারের দুর্গা মন্দির প্রথম  ও প্রধান সেবায়েত ছিলেন , 
রতুয়ার সু বিস্তীর্ণ তিনি জ্ঞানী ও পণ্ডিত ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত ছিলেন ।
তার স্মৃতি গড়ে উঠবে 
এক মন্দির  এটাই আমার স্বপ্ন 
এটা কোন জমির লোভ নয় ভাই ,এটা একটা স্বপ্ন 
আর আমি সেই স্বপ্ন দেখি 





Comments